কিশোরগঞ্জে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ

Spread the love
মুসলিম ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এক জনপদের নাম কিশোরগঞ্জ। একে ঘিরে রয়েছে অনেক ইতিহাস। প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্যের বিখ্যাত নানা দর্শনীয় স্থান রয়েছে এখানে। প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো তারই একটি ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ।

37357659082_62f60fea1e_o

শহরের পশ্চিমে নরসুন্দা নদীর তীরে এ তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদটি অবস্থিত। এর পাঁচতলা সুউচ্চ মিনারটি বহুদূর থেকে সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। পাগলা মসজিদের ইমরাত খুবই সুন্দর এবং নির্মাণশৈলীও বেশ চমৎকার। আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত পাগলা মসজিদটি নানা ধরণের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে খ্যাত। মসজিদটি কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া নামক এলাকায় অবস্থিত। শহরের যেকোনো স্থান থেকে রিক্সাযোগে মসজিদে যাওয়া যায়।

জনশ্রুতি আছে যে, পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মধ্যস্থলে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের কাছে স্থিতু হন এবং তাকে ঘিরে আশেপাশে অনেক ভক্তকূল সমবেত হন। ওই পাগলের মৃত্যুর পর তার সমাধির পাশে পরবর্তীতে এই মসজিদটি গড়ে উঠে। ফলে কালক্রমে মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিত পায়।

এই মসজিদটি শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বীর কাছে নয়, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও এর আশেপাশের অঞ্চলে সব ধর্মাবলম্বীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে পরিগণিত। মানুষের বদ্ধমূল বিশ্বাস, যে কেউ একনিষ্ঠ নিয়তে এ মসজিদে কিছু দান-খয়রাত করলে তার ইচ্ছা পূর্ণ হয়। ফলে সাধারণ মানুষ এমন বিশ্বাসের আলোকে পাগলা মসজিদে প্রচুর দান-খয়রাত করে থাকেন।

পাগলা মসজিদ বর্তমানে অনেক সম্প্রসারিত। প্রথমে হয়বতনগর দেওয়ানবাড়ির ওয়াকফকৃত ভূমির পরিমাণ ছিল ১০ শতাংশ। বর্তমানে এর পরিমাণ ৩ একর ৮৮ শতাংশ। মসজিদের ব্যয়ে ২০০২ সালে মসজিদের পাশেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি হাফেজিয়া মাদরাসা। মসজিদটি পরিচালিত হয় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে।
37357660422_dee7476180_o
ঐতিহাসিক এই মসজিদের দান-খয়রাতের সিন্দুক খোলা হয় তিন মাস পরপর। গতকাল শনিবার (২৩ মে, ২০১৫) সকালে পাগলা মসজিদের ৪টি সিন্দুক খোলা হয়। এতে নগদ ৫৮ লাখ ৯৪ হাজার ৩শ’ ২৫ টাকাসহ প্রচুর স্বর্ণ অলংকার পাওয়া গেছে। সে হিসেবে দেখা যাচ্ছে, টাকাসহ বিভিন্ন দানকৃত জিনিসপত্র থেকে প্রতিদিন মসজিদটির আয় গড়ে দেড় লাখ টাকা। মাসে ৪৫ লাখ টাকা, আর বছরে মোট আয় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা।
দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে সম্প্র্রতি পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্সের বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতে অর্থ সাহায্য করা হয়।

Leave a Reply